মোঃ নুর আলম পাপ্পু, খোকসা কুষ্টিয়াঃ
খোকসা উপজেলার মানিককাট গ্রামে কথিত “জ্বিনের আসন” চালিয়ে হারানো স্বর্ণালঙ্কার খুঁজে দেওয়ার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে কবিরাজ আলো খাতুনের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, খোকসা বাজারের তরকারি ব্যবসায়ী মোঃ সজিব হোসেনের স্ত্রীর ব্যবহৃত একটি স্বর্ণের চেন, কানের দুল ও রুলী প্রায় তিন মাস আগে নিজ বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে তিনি পাশ্ববর্তী বন্ধু রানার মাধ্যমে কবিরাজ আলো খাতুনের কাছে যান।
অভিযোগ রয়েছে, আলো খাতুন প্রতি শুক্রবার “জ্বিনের আসন” চালিয়ে হারানো স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং এভাবে ভুক্তভোগীকে প্রভাবিত করেন।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে আজ ২৭ এপ্রিল বিকাল প্রায় ২ টার দিকে ঘটনাস্থলে গেলে, অভিযুক্ত আলো খাতুনের বড় ছেলে মোঃ সিদ্দিকুর রহমান নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং একটি পেজের মালিক দাবি করেন। তবে কোন পেজ এবং কোথায় সাংবাদিকতা করেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি এবং পরে নিজের বক্তব্য অস্বীকার করেন। এতে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন উপস্থিতরা।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত কবিরাজ আলো খাতুন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি উল্টো অভিযোগকারী সজিব হোসেনের দিকেই আঙুল তুলে বলেন, হারানো স্বর্ণালঙ্কার তার নিজের কাছেই থাকতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ এটিকে প্রতারণার কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে কুসংস্কার নির্ভর কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন।
সচেতন মহল বলছেন, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা উচিত।