নিজস্ব প্রতিনিধি:
এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ অবশেষে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম।
করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা বৈশ্বিক সংকট অতিক্রম করে এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হচ্ছে। গত ১৬ এপ্রিল কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার মাধ্যমে পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সব প্রস্তুতি শেষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সময় স্বল্পতার কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা ও কারিগরি শর্ত পূরণের কারণে এর আগে কয়েকবার সময় নির্ধারণ করেও জ্বালানি লোডিং সম্ভব হয়নি। এবার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ কার্যক্রমে অংশ নিতে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে ১২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশের বেশি পূরণ করতে সক্ষম হবে।