নিজস্ব প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষাকেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে আয়োজন করা নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব বোর্ডে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে অধিকাংশ এলাকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, পরীক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপত্তা, মানসিক প্রস্তুতি ও শিক্ষাজীবনের গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। তাই একদিকে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করাও সরকারের দায়িত্ব।
তিনি আরও জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। মঙ্গলবার সকালেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া অন্য সব এলাকায় পরীক্ষা গ্রহণের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, সামনের দিনগুলোতেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসন কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত বা পরীক্ষার সময় বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে, তাকে চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই অংশ।
কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে নৌকায় করে পরীক্ষার্থী পরিবহনের ঘটনা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র একটি কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ছবি বা ভিডিও দিয়ে পুরো দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। পুরোনো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে মাহদী আমিন বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করছে। কিছু এলাকায় দুর্ভোগ হলেও দেশের অধিকাংশ পরীক্ষার্থী নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাই সব ধরনের বিভ্রান্তি দূরে রেখে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দেবে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস অটুট রাখাই সবার দায়িত্ব।