নিজস্ব প্রতিনিধি:
গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি সরকারের দায়িত্ব হলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন ও কার্যকর মনিটরিংয়ের দায়িত্ব কার সাধারণ যাত্রীর মুখে মুখে ঘুরছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ছাত্র ঐক্য কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী।
সরকার সম্প্রতি প্রতি কিলোমিটারে মাত্র ১১ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে যা দেখবার কেউ নাই।
গতকাল বিকেলে সরেজমিনে গণপরিবহনের ভাড়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী নিজেও এই অনিয়মের শিকার হন। সাইনবোর্ড থেকে শাহবাগ (এই রুটের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার) কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা ভাড়া হলে সরকারি নির্ধারিত নতুন ভাড়া হওয়ার কথা ৩০ টাকা সেখানে যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এই রুটে নিয়মিত চলাচলকারী ‘রজনীগন্ধা পরিবহন’-এ যাতায়াতকালে তিনি লক্ষ্য করেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার যদি ভাড়া নির্ধারণ করে, তাহলে সেটি বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বও সরকারেরই। শুধুমাত্র ঘোষণা দিয়ে দায় শেষ করা যায় না। প্রশ্ন হচ্ছে এই অনিয়ম রোধে কার্যকর মনিটরিং কোথায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা কি এই নৈরাজ্যকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না?”
তিনি আরও বলেন, গণপরিবহন খাতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে পরিবহন খাতে এমন অনিয়ম এটি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।
মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, “কিছু অসাধু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় দেশের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল। এভাবে চলতে থাকলে জনগণের আস্থা ভেঙে পড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
তিনি অবিলম্বে গণপরিবহন খাতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।