মোঃ নাঈম ইসলাম, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিএপি ও টিএসপি সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের মধ্যে বিসিআইসি ও বিএডিসির অনুমোদিত সার ডিলার গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে কৃষক পরিচয়ে থাকা এক ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়েছে।
ওই অডিওতে সরকারি মূল্যে সার না থাকার কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
ফাঁস হওয়া অডিওতে কৃষক পরিচয়ে থাকা ব্যক্তি সারের দাম জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ডিএপি সারের সরকারি মূল্য প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা। তবে সেটি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ টাকায়। আর টিএসপি সারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকায়।
কথোপকথনের একপর্যায়ে গিয়াস উদ্দিন বলেন, তাঁর কাছে সরকারি সার নেই। সরকারি দামে সার নেওয়ারও সুযোগ নেই। তবে সরকার সার সরবরাহ করলে সরকারি নির্ধারিত মূল্যেই তা বিক্রি করা হবে।
উপজেলার কয়েকজন কৃষক বলেন, চাষাবাদের ব্যয় এমনিতেই বেড়েছে। এর মধ্যে প্রতি বস্তায় ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হওয়ায় উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষক বলেন, “সরকার দাম ঠিক করে দিলেও মাঠে সেই দাম নেই। যাঁরা দেখভাল করার কথা, তাঁরা চুপ। তাই ডিলাররা যা খুশি দাম নিচ্ছেন।”
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি বিভাগ, বিসিআইসি, বিএডিসি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত বাজার তদারকির কথা। কিন্তু অভিযোগের পরও তারা কার্যকর অভিযান চালাচ্ছে না।
স্থানীয়দের ধারণা, দায়িত্বে অবহেলা, প্রভাবশালী মহলের চাপ কিংবা প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই সংশ্লিষ্টরা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত এবং অতিরিক্ত দাম আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।