জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান, মিশর প্রতিনিধি:
মিশর সরকার দেশটিতে অবস্থানরত সকল বিদেশি নাগরিককে তাদের আইনগত অবস্থান দ্রুত নিয়মিত করার এবং সদ্য চালু করা স্মার্ট রেসিডেন্সি কার্ড সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে কঠোর সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, বৈধ রেসিডেন্সি বা সরকার-স্বীকৃত অব্যাহতি কার্ড ছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিক আর রাষ্ট্রীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন না।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মিশরের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব পাসপোর্টস, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি বিভাগ জানায়, দেশটিতে বসবাসরত সকল বিদেশিকে দ্রুত তাদের রেসিডেন্সি পারমিট নবায়ন এবং নতুন স্মার্ট রেসিডেন্সি কার্ড গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।
সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কেবলমাত্র বৈধ রেসিডেন্সি বা অব্যাহতি কার্ডধারীরাই স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যাংকিং, চাকরি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের যোগ্য হবেন। এই নিয়ম কার্যত রাষ্ট্রীয় সেবায় প্রবেশাধিকারকে বৈধ অভিবাসন নথির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করছে।
যেসব বিদেশি নাগরিক রেসিডেন্সি ফি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, তাদেরও বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য নিবন্ধন করে সরকার-প্রদত্ত অব্যাহতি কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ মূলত রাষ্ট্রীয় সেবা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল, সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছ করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
এই কঠোর নীতিমালা ২০২৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মিশরে অবস্থানরত লক্ষাধিক বিদেশি নাগরিক যাদের মধ্যে শরণার্থী, অভিবাসী, শিক্ষার্থী এবং প্রবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত তাদের আইনগত অবস্থান নিয়ন্ত্রণ ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের আগস্টে মিশর সরকার ঘোষণা করে, অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের বৈধতা অর্জনের জন্য ১,০০০ মার্কিন ডলার প্রশাসনিক ফি প্রদান এবং একজন মিশরীয় হোস্টের প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। পরবর্তীতে এ সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হয়, যা সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এসব নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে এখন দেশজুড়ে রেসিডেন্সি যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে। এর ফলে অনেক বিদেশি নাগরিক, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করছেন, তারা নতুন নিয়মের আওতায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসী মহলের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কিছু নাগরিকও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মিশরে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে আলাদা কোনো দেশের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি, তবে কর্তৃপক্ষ সবাইকে সমানভাবে আইন মানার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এর তথ্য অনুযায়ী, মিশরে বর্তমানে প্রায় ৯.১ মিলিয়ন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছে, যারা ১৩৩টি দেশের নাগরিক। এর মধ্যে সুদান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়ার নাগরিকদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ মিশরে প্রবেশ করে, যার ফলে বিদেশি জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
মিশরীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় ডাটাবেস হালনাগাদ করা, অভিবাসন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে আনা এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপের মধ্যে সরকারি সেবার কার্যকারিতা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।