মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যে নীলফামারীতে তিনদিনব্যাপী ‘ভূমি সেবা সপ্তাহ ও ভূমি মেলা-২০২৬’ শেষ হয়েছে বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, ভূমি কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতাদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সমাপনী দিনের প্রধান আকর্ষণ ছিল আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এতে অংশ নেয় নীলফামারী সরকারি কলেজ ও নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ।
“ডিজিটাল ভূমি সেবাই পারে ভূমি সংক্রান্ত হয়রানি সম্পূর্ণ নির্মূল করতে” শীর্ষক বিতর্কে পক্ষে অবস্থান নেয় নীলফামারী সরকারি কলেজ এবং বিপক্ষে অবস্থান নেয় নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ। যুক্তি, তথ্য-উপাত্ত ও উপস্থাপনায় এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে নীলফামারী সরকারি কলেজ।
বিতর্ক শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ প্রতিযোগিতা। ভূমি সেবা, ডিজিটাল নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর ও অনলাইন সেবা কার্যক্রমভিত্তিক প্রশ্নোত্তরে বিজয়ী হিসেবে সাতজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এ সময় তিনি বলেন, “ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং সেবাকে আরও স্বচ্ছ ও সহজলভ্য করতে সরকার কাজ করছে। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।”
এসময় ইউনিয়ন পর্যায়ে দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব সেবা প্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলার সেরা তিন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুল ইসলাম জানান, নির্বাচিত সেরা তিন ভূমি কর্মকর্তা হলেন— ডোমার পৌর ভূমি অফিসের এটিএম শাহজাহান আলী, ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের দুলাল চন্দ্র রায় এবং জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ভূমি অফিসের রেজওয়ান হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) তানজীর ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সেবাগ্রহীতারা।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে শুরু হওয়া তিনদিনব্যাপী ভূমি সেবা সপ্তাহে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন সেবা, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, ই-খতিয়ান ও গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজন সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমি সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সেবা গ্রহণে আগ্রহ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।