২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

রামিসা হত্যা মামলায় ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ, আদালতে যাচ্ছে অভিযোগপত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, প্রধান আসামি সোহেল রানাই ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত।

শনিবার (২৩ মে) শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর ফরেনসিক ইউনিট এই প্রতিবেদন জমা দেয়। একই সঙ্গে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলার অভিযোগপত্রের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হতে পারে। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। একই সঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথাও স্বীকার করেন।

পল্লবী থানার তদন্ত কর্মকর্তা ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানান, ফরেনসিক রিপোর্টে শিশুটিকে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতে তা জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের কাজ চলছে। বর্তমানে মামলার বিভিন্ন কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

এদিকে, মামলার বিচার দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। শনিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ঈদের পর থেকেই রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top