২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

রাজধানীর পশুর হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা, স্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর কুরবানির পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ঢাকার বিভিন্ন হাটে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর হাঁকডাক, দরদাম আর মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে হাটগুলো।

এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় মোট ২৭টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় রয়েছে ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাট। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলী এবারও ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

সোমবার ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, ছাগল ও মহিষ আসছে ঢাকার বাজারে। কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, কুমিল্লা, নওগাঁ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার খামারিরা ভালো দামের আশায় রাজধানীতে পশু নিয়ে এসেছেন।

এবার দেশি মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যে ভালো পশু কিনতে হাটে ভিড় করছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে এসে পশু দেখছেন, দরদাম করছেন এবং পছন্দমতো গরু কিনে নিচ্ছেন।

ক্রেতাদের মতে, কয়েক দফা দরদামের পর তুলনামূলক সহনীয় দামে পশু পাওয়া যাচ্ছে। তবে বড় আকারের গরুর দাম এখনও কিছুটা বেশি। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর বাজারে পশুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় বিভিন্ন দামের গরু পাওয়া যাচ্ছে। তারা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ দুই দিনে বিক্রি আরও বাড়বে।

গাবতলী হাটে আসা যশোরের মনিরামপুরের ব্যবসায়ী মনিরুল হক জানান, পশুখাদ্য ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় গরুর দাম কিছুটা বাড়তি রাখতে হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের সামর্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

ডেমরার সারুলিয়া ও আমুলিয়া মডেল টাউন পশুর হাটেও জমে উঠেছে বেচাকেনা। সোমবার সকাল থেকেই সেখানে ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। যদিও কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, সারুলিয়া হাটে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু উঠেছে। অন্যদিকে আমুলিয়া মডেল টাউন হাটে বিক্রির পরও ১০ হাজারের বেশি গরু রয়েছে। বিভিন্ন জাতের ছোট-বড় গরু নিয়ে ব্যাপারী ও খামারিরা প্রতিদিনই হাটে আসছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর প্রতিটি বড় হাটে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। জাল টাকা শনাক্ত করতে বিভিন্ন ব্যাংক স্থাপন করেছে বিশেষ বুথ ও টাকা গণনার মেশিন। পাশাপাশি দ্রুত ব্যাংক হিসাব খোলার সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, দেশে এবার কুরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top