আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পেতে রাখা স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধবিরতির নীতি বজায় রেখেই এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে মার্কিন বাহিনী তাদের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে কিছুটা অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই। তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ বন্ধে দ্রুত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখনো স্পষ্ট নয়।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কাছে এই হামলা চালানো হয়। এলাকাটিতে ইরানের একটি বড় নৌঘাঁটি রয়েছে।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, বন্দর আব্বাস এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানানো হয়।
তবে এ হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান। একই সঙ্গে এই ঘটনার ফলে চলমান শান্তি আলোচনা ও সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্ভাব্য একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে পরে তিনি অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে মধ্যস্থতাকারীদের এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দেন।