নিজস্ব প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও নজরদারি বাড়লেও স্থানীয়দের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। বিশেষ করে রাত নামলেই ভয় ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। সম্প্রতি পুলিশ ও র্যাবের নির্মাণাধীন দুটি ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুখ্যাত ইয়াসিন বাহিনী ও রোকন মেম্বারের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে পুরো এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। চাঁদাবাজি, দখলবাণিজ্যসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।
গত ২৪ মে গভীর রাতে কয়েকশ সন্ত্রাসী জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন সড়ক কেটে দেয় এবং র্যাব ও যৌথ বাহিনীর নির্মাণাধীন ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের দীর্ঘক্ষণ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে তিন শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও এখনো তিনি গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন। একইভাবে রোকন মেম্বারকেও আটক করা সম্ভব হয়নি।
হামলার পর থেকে এলাকায় র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি রয়ে গেছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এলাকা পরিদর্শন করে সন্ত্রাসীদের শেষ আশ্রয়স্থলও নির্মূল করার ঘোষণা দেন। তিনি অবৈধভাবে বসবাসকারী বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেন, পুনর্বাসনের আগে কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কেন্দ্রীয় কারাগার, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাসজমি দখলকে কেন্দ্র করে জঙ্গল সলিমপুরে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উত্থান হয়েছে। গত দুই দশকে পাহাড় কেটে সেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। এসব বসতির বড় অংশই বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি খাসজমি অবৈধভাবে প্লট আকারে বিক্রি এবং চাঁদাবাজি এখানকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রধান আয়ের উৎস। কাগজপত্রবিহীন ছোট ছোট প্লট কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। এছাড়া অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকেও বিপুল অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জঙ্গল সলিমপুরে অতীতেও একাধিক বড় অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অস্ত্র কারখানা উচ্ছেদ, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। গত কয়েক বছরে এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চলমান অভিযান ও প্রশাসনিক তৎপরতার মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।