৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

মালয়েশিয়া সফর ঘিরে প্রবাসীদের প্রত্যাশা, শ্রমবাজার খোলার আশায় বাংলাদেশিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামী ২১ ও ২২ জুন কুয়ালালামপুরে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রবাসীদের আশা, এই সফরে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের বৈধতার সুযোগ এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

প্রবাসীরা মনে করছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং কর্মসংস্থান ও অভিবাসনসংক্রান্ত নানা জটিলতার সমাধানের পথ তৈরি হবে।

মালয়েশিয়া যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীের এই সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করবে না, বরং প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও স্থিতিশীলতা নিয়েও অগ্রগতি হবে।

এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিভিন্ন বিষয়ে এই সফরের মাধ্যমে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে। বিশেষ করে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধতা প্রদান এবং কম খরচে, স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত শ্রমবাজার গড়ে তোলার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে তা হাজারো প্রবাসী পরিবারের জন্য সুখবর বয়ে আনবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর পৌঁছাবেন এবং পরদিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হতে পারে।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার সফরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরের সূচি প্রায় চূড়ান্ত। মালয়েশিয়া সফর শেষে ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফরেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীনে যাবেন নাকি আগে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে জনশক্তি রপ্তানি ও অভিবাসন। প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা থাকায় প্রবাসীদের কাছে সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও সম্প্রতি শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানদের এ ধরনের সফর সাধারণত বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আয়োজন করা হয়। সে বিবেচনায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি এবারের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top