সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ফুফুর বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়ে রেজাউল করিম নামে বিএনপি নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অন্য আসামিদের আটকে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
নিহত রেজাউল করিম (৪০) উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের দোলাপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— একই এলাকার মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে মিষ্টু মিয়া (৫২) এবং তার ছেলে আদম আলী (২৮)।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোলাপাড়া এলাকার মৃত আজিম উদ্দিনের ছয় ছেলের মধ্যে পাঁচ ভাইয়ের সঙ্গে অপর ভাই আমিন উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
গত সোমবার রেজাউল করিম আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে তার ফুফা আমিন উদ্দিনের বাড়িতে দাওয়াতে অংশ নিতে যান। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় রেজাউল করিমসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রেজাউল করিম মারা যান। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা কিশোরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, “নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে আমরা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছি। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে, বিএনপি নেতা রেজাউল করিম হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে বুধবার বিকেলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফাসহ দলীয় নেতাকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, একজন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।