নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির অন্যতম মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। একসময় আর্থিক সংকটে থাকা আবেদ আলী প্রশ্নফাঁস বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বোতলা গ্রামে তিনি গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তার নামে-বেনামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বিপুল সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও করেছিলেন।
২০২৪ সালের ৯ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আদালতে ৪১ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, আবেদ আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত ৫৫ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বছরের পর বছর বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তদন্তে জানা গেছে, পরীক্ষার আগে নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র সরবরাহ করা হতো। নির্দিষ্ট স্থানে এনে তাদের উত্তর মুখস্থ করানো হতো এবং পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের অর্থ।
চক্রটিতে পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং দালালচক্রের সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, প্রশ্নফাঁসের এই নেটওয়ার্ক দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত ছিল এবং সরকারি নিয়োগব্যবস্থার গোপনীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
মামলায় মোট ৫৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ জন গ্রেফতার হয়েছেন এবং ১৯ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে, সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় একজন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চক্রের কয়েকজন সদস্যের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং সম্ভাব্য অর্থপাচারের বিষয়টি তদন্তের জন্য পৃথক উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এটি ছিল রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত অপরাধচক্র। আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হলে প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত আরও প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নাম সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।