১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ক্যাপাসিটি চার্জ ইস্যুতে আইনি পদক্ষেপের চিন্তা সরকারের

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ জমে থাকা বিপুল অঙ্কের বকেয়া এবং অতীতের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো নিয়ে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সরকার। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অতীতের কিছু চুক্তির ফলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জ সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় সম্পাদিত অনেক বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে থাকুক বা না থাকুক, সরকারকে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ক্যাপাসিটি চার্জ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সহজে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে পরবর্তীতে এই ব্যবস্থার কারণে সরকারের আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, হঠাৎ করে এ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিলে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও জানান, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায় রয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়ম, অপচয় ও দুর্বল পরিকল্পনার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্যয়, অব্যবহৃত সরঞ্জাম ক্রয় এবং অসম্পূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের কারণে বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, অতীতের প্রকল্প ও চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে কোথাও অনিয়ম বা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top