মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ওয়ার্ড বিএনপির নেতা রেজাউল করিম হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে নিহতের পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসী। এ সময় দাবি আদায় না হলে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে নিহতের মা আফরোজা বেগম, ভাই মো. এনামুল হক, মামলার বাদী ও নিহতের ছোট ভাই আব্দুল ওয়াদুদ, আব্দুল মাজেদ, স্থানীয় বাসিন্দা নাসির হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার অধিকাংশ আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বজনরা জানান, গত ১ জুন বিকেলে কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের দোলাপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও দোলাপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম (৪০) পার্শ্ববর্তী গড়েরপাড় গ্রামে তার ফুপুর বাড়িতে দাওয়াতে যান। সেখানে জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে তার ফুপা আমিনুর রহমানের ভাইদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জুন তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় একই দিন নিহতের ছোট ভাই আব্দুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্দুল ওয়াদুদ অভিযোগ করেন, মামলার কয়েকজন আসামি বিদেশে লোক পাঠানোর নামে ভিসা প্রতারণা এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। তারা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং অর্থের প্রভাব খাটিয়ে আইনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বক্তারা বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হওয়ার পরও অধিকাংশ আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার না করা হলে পরিবার ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।স্মারকলিপিতে মামলার সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বলেন, “ঘটনার পর এ মামলার দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”