নিজস্ব প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জে টহল পুলিশের গুলিতে আহত তরুণ শাহাদাত হোসেন শ্যামলকে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে কেন চূড়ান্তভাবে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে শ্যামলের জন্য নির্ধারিত ২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহিনুজ্জামান।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কামারকান্দা এলাকায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে গুলিবিদ্ধ হন শাহাদাত হোসেন শ্যামল। তার দাবি, বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় পুলিশ থামার সংকেত দিলে তারা মোটরসাইকেল থামান। এরপরও এক পুলিশ সদস্য তার পায়ে গুলি করেন।
আদালতে শুনানিকালে আইনজীবী জানান, শ্যামল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে মুন্সিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেল থামানোর পরও গুলির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরদিন পুলিশ উল্টো শ্যামল ও তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশের নির্দেশ অমান্য করা এবং বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর অভিযোগে সিরাজদিখান থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে ঘটনাটির বিষয়ে ক্ষতিপূরণ ও দায় নির্ধারণের প্রশ্নে নতুন আইনি অগ্রগতি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।