নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র। একসময় স্বচ্ছ পানি, পাহাড়ি ঢল ও সাদা পাথরের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের সমাগম হলেও অবৈধ পাথর উত্তোলন, দখল ও লুটপাটের কারণে এর পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার সেই সাদাপাথর লুট মামলার এক আসামিকে সরকারি সফরে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা যাওয়ায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার (১৩ জুন) ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকায় নদী পরিস্থিতি ও ভাঙনকবলিত অঞ্চল পরিদর্শনে যান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক বহিষ্কৃত সভাপতি ও সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাহাব উদ্দিন, যিনি বহুল আলোচিত সাদাপাথর লুট মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে পরিচিত।
বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, চলমান মামলার একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে সরকারি পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনে অংশগ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় জনপরিসরেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পাথর উত্তোলনের কারণে পরিবেশগত ক্ষতির শিকার। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের চোখের সামনেই বছরের পর বছর অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পাচার করেছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
এ ঘটনায় খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর দায়ের করা মামলায় সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এছাড়া সরকারি জমি দখল ও সাদাপাথর লুটের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্তও হয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং আইনের শাসন ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের আরও সতর্ক অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
তবে সাহাব উদ্দিনের সমর্থকদের দাবি, তিনি নদীভাঙন ও স্থানীয় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরতেই ওই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকলেও বিষয়টি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ বলেই তারা মনে করেন।
পরিদর্শনকালে ধলাই নদীর ভাঙন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও পরিবেশ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান।
এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সাদাপাথর, জাফলং ও কোম্পানীগঞ্জ অঞ্চলে অবৈধ পাথর উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় থেকে দূরে রাখার দাবি জানিয়েছে।