নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে অনলাইন জুয়া বা গ্যাম্বলিং। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে বিদেশি ও দেশীয় চক্রগুলো তরুণ ও যুবসমাজকে এই আসক্তির দিকে টেনে নিচ্ছে। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই সর্বস্ব হারাচ্ছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সমাজে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিদেশি চক্র অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রমে দেশের কিছু এজেন্ট ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তাদের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনলাইন জুয়ার জনপ্রিয় কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে স্পোর্টস বেটিং, ক্যাসিনো গেম, টেবিল গেমসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে নতুন খেলোয়াড়দের যুক্ত করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে নিয়মিত সাইবার নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং চক্র জড়িত থাকায় তদন্তে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকসহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন জুয়া পরিচালনার নানা তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার কিছু অপব্যবহারের বিষয়ও সামনে এসেছে।
এদিকে সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শত শত ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জুয়ার লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন অসংখ্য মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া মাদকাসক্তির মতোই ভয়াবহ, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। কারণ এটি মানুষের মস্তিষ্কের আনন্দ ও পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। ফলে ক্ষতির পরও খেলোয়াড়রা পুনরায় অর্থ বিনিয়োগ করে হারানো টাকা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন, যা শেষ পর্যন্ত আরও বড় ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়ার কারণে পারিবারিক অশান্তি, অপরাধপ্রবণতা এবং সহিংস ঘটনার সংখ্যাও বেড়েছে বলে বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করা জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অনলাইন জুয়ার মূল নিয়ন্ত্রক চক্র দেশের বাইরে অবস্থান করায় পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা কঠিন হলেও এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।