সিহাব আলম সম্রাট, রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পুঠিয়ায় আদিবাসীদের বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট, বসতবাড়ির যায়গা দখল ও জোর করে মাছ ধরে নেয়া এবং গাছপালা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এ মাসের ১২ তারিখ সকাল ১১ টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুঠিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেছেন ভক্তভোগী পরিবার। এর আগে কোর্টে হাজির হয়ে ১৪৪ ধারা মামলা দায়ের করেন সুকিন্দর সরকার, পিতা সুতার সরকার। মামলা ও থানায় অভিযোগসূত্রে জানা যায়, “পুঠিয়া উপজেলার ধোকড়াকুল মৌজার জেএল নং ২০৩ এর, হাল দাগ নং ৩১৭১ ও ৩১৫৭ এর মোট ৩৭ শতাংশ জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে। সেলিনা সরকারের অভিযোগ পত্র হতে জানা যায়, আমার দাদা শ্রী আকালু সরকার আর এস খতিয়ান নং ১১৭৬ দাগ নং ৩১৭১ ও ৩১৫৭ মোট জমির পরিমাণ ৩৭ শতাংশ জমি আমার দাদা ও পরবর্তীতে আমার পিতা দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ আমার পিতার সূত্রে উক্ত সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ মালিক এবং দীর্ঘদিন যাবত ভোগ দখল করে আসছি কিন্তু সম্প্রতি বিবাদীগণ অসৎ উদ্দেশ্যে তাদের পূর্বপুরুষদের বিক্রয়-কৃত ওই জমি কে নিজেদের দাবি করে আমাদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করছে। উক্ত বিরোধের জের ধরে জুন মাসের ১২ তারিখ সকাল ১১ টার সময় বিবাদীগণ বেআইনি ভাবে দলবদ্ধ হয়ে আমাদের দখলের জমিতে প্রবেশ করে সেখানে নির্মিত আমার বাড়ি জোরপূর্বক ভাংচুর করে ফেলে। আমার ঘরে থাকা কট বাবদ নগদ এক লক্ষ টাকা এবং আট আনি স্বর্ণের গহনা আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা লুটপাট করে ছিনিয়ে নিয়ে যায় আমিও আমার পরিবারের সদস্যরা উক্ত কর্মকান্ডে বাধা প্রদান করিলে বিবাদীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের গালিগালাজ করে এবং মারপিট করে এবং প্রাণ নাসের হুমকি দেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে”।
ভুক্তভোগী রাসন্তি বলেন, “আমার পিতার জমিতে আমি বাড়ি করে বসবাস করছি কিন্তু ওরা এসে আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং টাকা পয়সা যা ছিল সবকিছু নিয়ে চলে গেছে। এ বিষয়ে কাকলি বলেন, শুক্রবারে বসার দিন ছিল অথচ তারা না বসে আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করে সব কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই। তাদের ওয়ারিশ সহর উদ্দিনের নিকট হতে আমরা জমি কিনেছি তার দলিল রয়েছে। তারপরও ওরা আমাদের জমি দখল করতে আসে।
ভুক্তভোগী বাবলু সরকার বলেন, ওরা এসে আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর শুরু করলে আমরা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশকে জানাই পুলিশ আসার পরে ওরা পালিয়ে যায়। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি এখনো অভিযোগের কোন ফল পাইনি। পুলিশ বলছে তোমরা কোর্টে যাও।
প্রতিবেশী বাসন্তী বলেন, আমি আর আমার মেয়ে এখানে বসে ছিলাম ওরা দলবল নিয়ে এসে কোন কথা ছাড়াই বাড়িঘর ভাঙচুর করে সবকিছু নিয়ে চলে যায়।
ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তফা বলেন, আমরা তোমাদের সাথে কথা বলবো না ওদেরকে কাগজ নিয়ে আসতে বল তারপর কথা বলবো। যদিও বাড়ি ভাঙচুরের কথা মোস্তফার স্ত্রী স্বীকার করেছিলেন।
পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান বলেন, বিষয়টি জেনে খুব খারাপ লাগলো আমি ঘটনাস্থল স্বরে জমিনে পরিদর্শন করবো। এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হবে।