মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানী ইউনিয়নের পূর্ব চাপড়া শুকানপুকুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবা ও তার ছেলেকে মারধর এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তি নীলফামারী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। আহতদের নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব চাপড়া শুকানপুকুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মজিদুল ইসলাম (৬২) অভিযোগ করেন, তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী তহমিনা বেগম এবং ছেলে রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার নামে থাকা জমি নিজেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ জুন বুধবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে শুকানপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত তার মালিকানাধীন জমিতে অভিযুক্তরা আমিন দিয়ে মাপজোক করে দখলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মজিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাঁশের লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হামলায় তিনি মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ছেলে ওবাইদুল ইসলামও হামলার শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথা ফেটে যায় এবং ঘুষির আঘাতে সামনের দুটি দাঁত নড়ে যায়। হামলার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি নিয়ে পরিবারটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা নিশ্চিত করেছেন। তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় ভিন্নমতও রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে নীলফামারী থানা পুলিশের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আহত মজিদুল ইসলাম ও তার ছেলে ওবাইদুল ইসলামকে উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার কারণে মজিদুল ইসলাম নিজে থানায় উপস্থিত হতে না পারায় তার বড় ছেলে মো. জুবায়ের আহমেদের মাধ্যমে লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়।
অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে সরে যান। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ/এজাহার পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত আইনি ও সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি না হলে এ ধরনের সংঘাত আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিতে পারে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।