রিফাজ বিশ্বাস লালন, ঈশ্বরদী প্রতিনিধি:
জনস্বার্থের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন ও পরিবেশ আইন অমান্য করে ইস্তার ভেলুপাড়া গ্রামে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে নির্মাণাধীন ‘অটো রাইস মিল ও বার্ণঅয়েল মিল’-এর কার্যক্রম চালুর জন্য আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিবশে, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আপিল আবেদন মঞ্জুরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাবনার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ইস্তা গ্রামের ভেলুপাড়া এলাকায় সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে ‘ঈশ্বরদী উপজেলা পরিবেশ রক্ষা কমিটি ও পরিবেশবাদী সচেতন জনতা’-ব্যানারে শহরের পৌর এলাকার ইস্তা ভেলুপাড়ায় এ সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কয়েক শ এলাকাবাসী অংশ নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা পরিবেশ রক্ষা কমিটির সহসভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, এলাকার পরিবেশ রক্ষার্থে ২০১৮ সাল থেকে জনবসতি এলাকায় রাইচ মিল, রাইচ বার্নওয়েল মিল স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। এ আন্দোলনের ফলে ২০২২ সালে পাবনা পরিবেশ অধিদপ্তর উপজেলার বড়ইচারা এলাকার বাসিন্দা মধু বিশ্বাসের নির্মাণাধীন আর বি রাইচ বার্নওয়েল মিল এর অবস্থানগত ছাড়পত্রের আবেদন নামঞ্জুর করে।
শামীম আহমেদ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মধু বিশ্বাস পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে আপিল করেন এবং তার আপিল আবেদন শর্তসাপেক্ষে মঞ্জুর করা হয়েছে। মধু বিশ্বাস ছাড়পত্র নিয়ে কারখানা তৈরি করবে এটাই আইনের শর্ত, কিন্তু তিনি তা তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে কারখানা নির্মাণ শুরু করে। এখন মন্ত্রণালয় তার আপিল মঞ্জুর করে, কিন্তু কিভাবে এটা সম্ভব-সেটাই রহস্য। তিনি বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যক্তিরাই যদি ঘনবসতি এলাকায় অবৈধ কারখানা স্থাপনের সুযোগ করে দেন, তাহলে আর কে পরিবেশ বাঁচাবে, ফসলি জমি, বসতি রক্ষা করবে কে?
শামীম আহমেদ আরও বলেন, মন্ত্রণালয় যদি গ্রামের ফসলি জমি পাশে ও ঘনবসতি এলাকায় কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেয় তাহলে মারাত্মকভাবে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে। কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোয়া, ছাই, দুর্গন্ধযুক্ত পানি, বর্জ্য নির্গত হয় তাহলে দূষণ বেড়ে মানুষ শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। পশু-পাখি হুমকির মধ্যে পড়বে। ব্যক্তিস্বার্থের জন্য বৃহত্তর স্বার্থ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়–ক এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। এসব বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয়কে মধু বিশ্বাসের আপিল মঞ্জুরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। যদি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে এলাকাবাসীকে নিয়ে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এ সময় তার পাশে ছিলেন আব্দুস সাত্তার, শরিফা খাতুন, তরিকুল ইসলাম, আলহাজ্ব তুহিন হোসেন, দুলাল মন্ডল, হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
যোগাযোগ করা হলে আর বি রাইচ ব্রানওয়েল মিলের মালিক মধু বিশ্বাস বলেন, এ কারখানা চালু নিয়ে নতুন করে কোনো আবেদন করেনি। পূর্বের করা আবেদনটিই শর্তসাপেক্ষে পুনর্বিবেচনায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি মহল দীর্ঘদিন থেকে এলাকার উন্নয়নে বাধা দিয়ে আসছে। আমি আইন ও নিয়ম মেনে এ পর্যন্ত কাজ করে আসছি।