মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
পৈতৃক সম্পত্তি, মাতার নামে দলিলকৃত জমি এবং সন্তানের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ এনে পিতা মজিদুল ইসলাম মাস্টারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার ছেলে রবিউল ইসলাম রবি। একই সঙ্গে জমি পরিমাপকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
শনিবার বিকেল ৩টায় নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানী ইউনিয়নের পূর্ব চাপড়া শুকানপুকুর এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রবিউল ইসলাম রবি। এ সময় তার মা তহমিনা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে রবিউল ইসলাম রবি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার পিতা মজিদুল ইসলাম মাস্টার তাকে ও তার মাকে পৈতৃক সম্পত্তি, পারিবারিক সুযোগ-সুবিধা এবং আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুন তার মা তহমিনা বেগমের নামে দলিলকৃত ৪৯ শতাংশ জমি পরিমাপের জন্য তারা ঘটনাস্থলে গেলে তার পিতা মজিদুল ইসলাম মাস্টার, সৎভাই ওমেদুল ইসলাম ও ওয়াদুদ ইসলাম, সৎমা ওমেদা বেগম, ছাইদুল ইসলামসহ কয়েকজন সহযোগী এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
রবির দাবি, হামলার মুখে তিনি ও তার মা প্রাণ বাঁচাতে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিলেও অভিযুক্তরা সেখানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে বাড়িঘরে আগুন দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলার ঘটনায় তিনি ও তার মা তহমিনা বেগম আহত হন বলে দাবি করে রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের নীলফামারী সদর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তারা বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, তার মায়ের নামে দলিলকৃত জমির দখল ও মালিকানা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মজিদুল ইসলাম মাস্টার বা অভিযুক্ত অন্যদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট পরিবারের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সাম্প্রতিক এ ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং বিরোধের আইনসম্মত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।