নিজস্ব প্রতিনিধি:
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (২১ জুন) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।
সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতার সুযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কুয়ালালামপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যেও এ সফর ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে অবস্থান করবেন। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও প্রতিনিধি দলের অংশ হবেন।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা, এ সফরের মাধ্যমে শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে সিন্ডিকেটমুক্ত কলিং ভিসা ব্যবস্থা চালু এবং অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
প্রবাসীরা মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ও স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা চালু হলে কম খরচে বৈধভাবে কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এতে শ্রমিকদের ভোগান্তি কমবে এবং দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের একটি অংশ বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত অবস্থায় রয়েছেন। এ কারণে বৈধতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হলে তারা উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং বৃত্তি বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির প্রত্যাশা করছেন।
ব্যবসায়ী মহলের মতে, এই সফরের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃষি, উৎপাদনশিল্প এবং হালাল অর্থনীতিতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশ।