নিজস্ব প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) ভোরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৭৭/২ এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৪ জন শিশু ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তিদের কয়েকদিন ধরে ভারতের সুখদেবপুর সীমান্ত এলাকায় রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করায় নারী ও শিশুসহ অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ভোরের দিকে তাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্ত এলাকায় জড়ো হন এবং বিজিবির সঙ্গে মিলে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিজিবি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
পরবর্তীতে বিজিবির আপত্তির মুখে বিএসএফ ওই ২০ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। দুপুরের দিকে তাদের পুরোপুরি ফেরত নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় বাহিনী।
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ঘটনার পর দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের ভারতের সুখদেবপুর এলাকায় ফিরিয়ে নেয়।
তিনি বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন মেনে নেওয়া হবে না।
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।