২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর লক্ষ্য সরকারের, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি:

দেশে ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে কাজ করছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, লাইসেন্সিং জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে ব্যবসা শুরু করার সময়সীমা প্রায় এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ শীর্ষক ডিব্রিফিং সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যবস্থায় কোনো উদ্যোক্তা ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। ফলে ১৫তম দিন থেকেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর যে সুপারিশ এসেছে, সেটিকে শুধু সময় বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে নয়, বরং দেশের অর্থনীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতির সময় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এ সময়কে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন খাতের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নয়ন এবং এলডিসি-পরবর্তী বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সরকার একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজীকরণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়গুলো সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক ক্রেতারা শুধু পণ্যের গুণগত মান নয়, বরং শ্রম অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও টেকসই ও জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি) সেল’ গঠন করেছে বলেও জানান তিনি। এই সেল সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর করতে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। কোথায় সময় কমানো এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ওভারল্যাপ দূর করা সম্ভব, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এসব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বিডার নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top