শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের মূল আসামির মা সহ,-একই পরিবারের ৩ জন খাঁচায়!

রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ

​লালমনিরহাটের আদিতমারীতে প্রথম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী নন্দিনী রানী (৭) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমেছে পুলিশ। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই নৃশংস ঘটনায় এবার আইনের জালে ধরা পড়েছেন মামলার ৩ নম্বর আসামি শ্রীমতি মমতা রানী।

পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৯ জুন লালমনিরহাট সদরের গোকুন্ডা ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেফতার করে আদিতমারী থানা পুলিশ। আদালত ইতোমধ্যে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

​মমতা রানীর গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত একই পরিবারের ৩ সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হলো। এর আগে এই মামলার প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র বর্মণ (২২) এবং তার বাবা রঞ্জিত চন্দ্রকে (৪৫) গ্রেফতার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মায়ের গ্রেফতারের পর এই হত্যা রহস্যের জট দ্রুত খুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​১৬ জুন (সোমবার): স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং কৃষক নলিনী চন্দ্র বর্মণের ৭ বছরের ছোট্ট মেয়ে নন্দিনী হঠাৎ নিখোঁজ হয়।

​১৭ জুন (মঙ্গলবার): পরদিন সকালে ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা দেওয়া বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হয় নিষ্পাপ শিশুটির মরদেহ।

​পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার পরেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

​নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধারের পর ফুঁসে ওঠে গোটা এলাকা। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। এতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং বেশ কয়েকটি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

​এব্যপারে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুস দৈনিক সাকিব আমার বাংলাদেশ সাংবাদিক কে বলেন ,সৃষ্ট ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে চলছে এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top