আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম উত্তেজনা: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এবং সহকারী শিক্ষকের বহিষ্কার প্রত্যাহারের দাবি

তারেক আজিজ লিংকন, স্টাফ রিপোর্টার:

৮৭ নং আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রীর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে । দেলোয়ার হোসেনের অভিযোগ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন কৌশলে এবং ব্ল্যাকমেইল করে তার স্ত্রীর সাথে এই সম্পর্ক বজায় রেখেছেন যার ফলে তার দীর্ঘ বারো বছরের সাজানো সংসার দুইবার ভেঙে গেছে । বর্তমানে সহকারী শিক্ষক তার তিনটি ছোট সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এবং তাকে একাই সন্তানদের সব দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে ।

গত দুই তারিখ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে । দেলোয়ার হোসেনের সন্তান অসুস্থ থাকায় তিনি প্রধান শিক্ষকের কাছে ছুটির অনুরোধ জানান । তবে অভিযোগ রয়েছে যে প্রধান শিক্ষক ছুটি দিতে অস্বীকার করেন এবং অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন যা নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয় । এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসন সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করলেও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি । এলাকাবাসীর অভিযোগ ঘটনার মূল নায়ক প্রধান শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও ভুক্তভোগীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে যা তারা মেনে নিতে পারছেন না ।

এই ঘটনার প্রতিবাদে স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং স্থানীয় জনতা মিলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন । বিক্ষোভকারীরা প্রধান শিক্ষকের ছবিতে ঘৃণা প্রদর্শন করেন এবং তাকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান । সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলীসহ অন্যান্য সহকর্মীরাও প্রধান শিক্ষকের চারিত্রিক সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাকে চরিত্রহীন বলে অভিহিত করেছেন । তারা জানিয়েছেন যে প্রধান শিক্ষকের এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের পবিত্র পরিবেশ কলঙ্কিত হচ্ছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে ।

বিক্ষোভকারী ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রধানত দুটি দাবি জানানো হয়েছে । প্রথমত সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সাময়িক বহিষ্কার আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা এবং দ্বিতীয়ত নৈতিক স্খলনের দায়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়াকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কাছে তার চাকরি ফিরে পাওয়ার এবং অপরাধী প্রধান শিক্ষকের বিচারের জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন । বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে এবং স্থানীয়রা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান চাইছেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top