প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, ভাঙল সহকারী শিক্ষকের সংসার; বিদ্যালয়ে সংঘর্ষে উত্তেজনা

তারেক আজিজ লিংকন, স্টাফ রিপোর্টার:

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষকের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ভেতর দুই শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা, সব মিলিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের সঙ্গে তার স্ত্রী শাহনাজের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তার দাবি, প্রায় ২০ মাস ধরে চলা ওই সম্পর্কের জেরে তার সংসার ভেঙে যায়। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর তিন সন্তানকে একাই লালন-পালন করতে হচ্ছে তাকে। সন্তানদের খাবার ও দৈনন্দিন দেখভাল করতে গিয়ে তিনি চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।

দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্য, চাকরিতে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে তার স্ত্রীকে সম্পর্কে জড়ান প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর সন্তানদের রান্না করে খাওয়ানো থেকে শুরু করে সব দায়িত্ব একাই পালন করতে হচ্ছে। অনেক সময় সন্তানদের শুকনো খাবার খেয়েই দিন কাটাতে হয়। দীর্ঘদিনের এই মানসিক কষ্টের পাশাপাশি নৈমিত্তিক ছুটি না পাওয়ার ঘটনাও ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সহকর্মী ওয়ালীউল্লাহ। তিনি বলেন, স্ত্রী ছাড়া তিন সন্তানকে নিয়ে দেলোয়ার হোসেন অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন। অনেক সময় সন্তানদের না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়তে হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তাদের দাবি, ২০২০ সালে চরচান্দা মুন্সিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে বিনামূল্যে বই বিতরণে অর্থ আদায়, পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

তবে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন নিয়মিত বিদ্যালয়ে দেরিতে আসতেন এবং অনুমতি ছাড়াই প্রায়ই কর্মস্থল ত্যাগ করতেন। ঘটনার দিন দেলোয়ার নৈমিত্তিক ছুটি চাইলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের স্বার্থে সেদিন ছুটি না দিয়ে পরে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দেলোয়ার তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই বিদ্যালয়ের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসাইন জানান, এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরেক শিক্ষককে মারধরের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একদিকে পরকীয়ার গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে কর্মস্থলে সংঘর্ষের ঘটনা, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারিত হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top