নিজস্ব প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ নগরীর ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকায় ভাড়া বাসায় রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির ভাষ্য, বাড়ির মালিককে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়িওয়ালার চার ছেলে পরিকল্পিতভাবে রুবেলকে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় চার ভাইকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। তারা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই ওই বাড়ির মালিক পারুল বেগমের ছেলে। গ্রেফতারদের মধ্যে তিনজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহ পিবিআই জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোপন তথ্য এবং পিবিআই সদর দপ্তরের সহায়তায় ঘটনার এক দিনের মধ্যেই প্রধান অভিযুক্তদের আটক করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় এক মাস আগে রুবেল ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। বাড়িওয়ালার অভিযোগ ছিল, রুবেলের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা আপত্তি তৈরি হচ্ছিল। তিনি বাসায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে আড্ডা দিতেন এবং মাদক সেবন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব কারণে বাড়ির মালিক তাকে পরবর্তী মাস থেকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান। তবে রুবেল বাসা ছাড়তে রাজি হননি বলে পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। সকালে রুবেল বাড়ির মালিক ও তার ছেলেদের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে ঘুম থেকে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে রুবেল বাড়ির মালিক পারুল বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পারুল বেগমের চার ছেলে মিলে পরিকল্পনা করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলের গলায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার চার ভাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেছেন, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শ্লীলতাহানির অভিযোগের জেরেই তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। গ্রেফতাররা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় বাড়ির মালিক পারুল বেগম, তার তিন ছেলেসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, মামলার প্রধান আসামি পারুল বেগম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সুস্থ হলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে। আগে আটক হওয়া আরও দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে তাদের ভূমিকা যাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে রোববার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর আর কে মিশন রোডের ছত্রিশবাড়ি কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।