মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের চারঘরি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ করানোর অভিযোগে প্রধান শিক্ষকসহ চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার একটি ছোট চৌকিতে শুয়ে আছেন। এ সময় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌ তাঁর পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে পা পাড়িয়ে দিচ্ছে, যা একধরনের ম্যাসাজ হিসেবে দেখা যায়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একই কক্ষে সহকারী শিক্ষিকা ওয়াহিদা জান্নাত মুনমুন একটি টেবিলে বসে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত রয়েছেন এবং অপর সহকারী শিক্ষিকা মনি আক্তার চেয়ারে পা তুলে বসে আছেন। এ সময় শিক্ষার্থীর পাঠদানের পরিবর্তে এমন কর্মকাণ্ড চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিভাবকদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান চলাকালে শিক্ষকেরা যদি এভাবে দায়িত্বে অবহেলা করেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “ঘটনার বিষয়ে প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান জানান, “ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়, আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ দিন আগের ঘটনা। বিষয়টি জানার পরপরই প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল আচরণ, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং পাঠদানের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো শুধু নৈতিকতার পরিপন্থী নয়, বরং এটি সরকারি চাকরির আচরণবিধি ও শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্বেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের নজর রয়েছে।