মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
সমাজের হতদরিদ্র, অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো যার নেশায় পরিনত হয়েছে। গ্রামের নারীদের নিয়ে টুপি সেলাই, নকশী কাঁথা সেলাই, ঠোটকাটা, তালুফাঁটা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, চোঁখের ছানি অপারেশন, প্রতিবন্ধিদের সাদাছড়ি, হুইল চেয়ার প্রদান, ছাগল-পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাসহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে মানব সেবার একমাত্র ব্রত নিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের পাশে দাড়িয়ে দুই যুগ ধরে কাজ করে আসছেন মোকারম হোসেন। তিনি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের অলংকারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মোকারম হোসেন জীবিকার তাগিদে ১৯৮০-৮১ সালে সিঙ্গাপুর পাড়ি জমান। সেখানে কিছুদিন পর আবার মালয়েশিয়াতে পাড়ি জমান। দেশে ফিরে বাবার পৈত্রিক সম্পত্তিতে চাষাবাদ শুরু করেন। ২০০০ সালে নিজবাড়ীতে এলাকার গরীব ও অসহায় নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুরু করে টুপি সেলাই ও নকশী কাথা সেলাইয়ের কাজ। এরপর আর পেছনে থাকাতে হয়নি। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন ও বিভিন্ন সামাজিক, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ তার নিজস্ব অর্থায়নে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। গড়ে তোলেন সমন্বিত প্রমিলা মুক্তি প্রচেষ্টা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

প্রথমে নিজের গ্রাম পরবর্তীতে আশপাশের গ্রামসহ জেলা ও অন্যান্য জেলায় কার্যক্রম শুরু করেন। সমাজের অবহেলিত, হতদরিদ্র, প্রতিবন্দি পরিবারকে বাছাই করে সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বেশ কিছু ভিক্ষুককে ছাগল প্রদান, মুদিখানার মালামাল সরবরাহ করেন। এরপর শুরু করে ঠোঁটকাটা, তালুফাঁটা রোগী বাছাই ও বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করেন। এ যাবৎকাল পর্যন্ত ২৭৯২ জন্মগত ঠোঁটকাটা তালুফাটা রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন করে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মোঃ মোকাররম হোসেন। এছাড়াও তিনি ২৫২জনকে চোঁখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি ডোম, মুচি, হরিজন, ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে আইনী প্রশিক্ষণ, কুঠির শিল্প সম্প্রসারণসহ নানা ভাবে সহযোগিতা করেন। তাদের জীব-যাত্রার মানোন্নয়নে ২০১৪ সালে হায়দ্রাবাদের বালা বিকাশায় প্রশিক্ষণে যান। সেই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে সমাজসেবামূলক কাজ করেন। ধুমপান বিরোধী কার্যক্রম ও তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার কাজ করেন।
সমন্বিত প্রমিলা মুক্তি প্রচেষ্টার পরিচালক মোঃ মোকারম হোসেন বলেন, ২০০০ সাল থেকে কাজ শুরু করি। এখন আমার যেন নেশায় পরিণত হয়েছে। ভালো কাজ করতে না পারলে ভালো লাগে না।
তিনি বলেন, সমাজসেবামূলক এ কর্মকাণ্ড বেগবান করতে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা এবং সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে। সমাজের অবহেলিত কেউ যেন বাদ না যায় এ কর্মকাণ্ড থেকে তার জন্য আমার আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।