২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি, ট্রিলিয়ন ডলার লক্ষ্যের কথা বললেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশের অর্থনীতিকে অগ্রসর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই কাঠামোয় রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারা অনুযায়ী এক বিস্তৃত বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। সেই আস্থার প্রতিদান হিসেবে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।”

অর্থমন্ত্রী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, জিয়াউর রহমান-এর নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। একইভাবে বেগম খালেদা জিয়া-র সময় পোশাকশিল্পের বিকাশ ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি আসে।

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে, যেখানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক খাতে চাপ, বিনিয়োগের ধীরগতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা রয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫০ লাখ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি কৃষক, জেলে ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আইসিটি খাত সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্লু ইকোনমি ও ইকো-ট্যুরিজমে বিনিয়োগ এবং ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এর মাধ্যমে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজস্ব খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও কর আদায় বাড়াতে অটোমেশন প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়, বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিতকরণ এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সহায়তা চাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও জনগণের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যৎ বাজেটে স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, সুশাসন নিশ্চিত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করে একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top