১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য: দুমকিতে শশুর-জামাতার বিরোধীয় জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

জাকির হোসেন হাওলাদার, দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের চরগরবদি এলাকায় জমি নিয়ে শশুর-জামাতার বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।জানা গেছে, জোয়ারগরবদি মৌজার এসএ ৬৮/৬৯ এবং বর্তমান বিএস ৩৫৫ খতিয়ানের রেকর্ডভুক্ত মালিক রুস্তম আলীর ওয়ারিশদের কাছ থেকে পৃথক কবলা দলিলের মাধ্যমে ৪২ দশমিক ৭৫ একর জমি ক্রয় করেন চরগরবদি গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন হাওলাদার। ক্রয়কৃত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।

পরবর্তীতে একই খতিয়ানভুক্ত জমি থেকে নিজের মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেনের নামে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে দেন জাকির হোসেন। তবে জমির ভাগবণ্টন নিয়ে শশুর-জামাতার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা একাধিক সংঘর্ষ ও সহিংসতার জন্ম দেয়। একপর্যায়ে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।এ ঘটনায় জাকির হোসেন হাওলাদার ২০২২ সালে বাদী হয়ে পটুয়াখালী জেলা যুগ্ম জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা নং ৩৫৯/২০২২ দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন এবং আগামী ধার্য্য তারিখ ২৬ এপ্রিল।

মামলার প্রেক্ষিতে বিরোধীয় জমির ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ জারি রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ওই জমি দখল করে বসতঘর নির্মাণ করছেন।

এ বিষয়ে জাকির হোসেন দাবি করেন, তিনি নিরুপায় হয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় দুমকি থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নিজের ক্রয়কৃত জমিতেই বসতঘর নির্মাণ করেছেন। পুলিশের নিষেধাজ্ঞার পর নতুন কোনো নির্মাণকাজ করেননি; কেবল ঘরের ভেতরের কাজ সম্পন্ন করছেন।

তিনি দাবি করেন, পূর্ব থেকেই সেখানে তার বসতবাড়ি ছিল এবং শত্রুতার জেরে তাকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞাধীন জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে কাগজপত্রসহ থানায় ডাকা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা আসেননি। দু’পক্ষ এলে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top