১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন

মোছাঃ মাহমুদা আক্তার নাঈমা, জাককানইবি প্রতিনিধি:

‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়)উদযাপিত হলো দুই দিনব্যাপী ‘বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩’। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,শোভাযাত্রা ও মেলার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ পর্বের মাধ্যমে এদিনটির কর্মসূচির সূচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাহি সাম্যের গান মঞ্চের সামনে থেকে বের হওয়া এ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।পরে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গাহি সাম্যের গান মঞ্চে এসে শেষ হয়।এর আগে সোমবার চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে ফিতা কেটে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য।

উক্ত ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’য় স্থান পায় বাঙালির ঐতিহ্যের স্মারক বিভিন্ন প্রকার আকর্ষণীয় মুখোশ, পাখির শিল্পকাঠামো ও ঘোড়ার গাড়ি। এসময় বাঙালি পোশাকে চিরপরিচিত সুর,ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্রের ঝংকারে নেচে-গেয়ে নতুন বছরের আগমনে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠতে দেখা যায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

এসময় বৈশাখকে ঘিরে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,

‘বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক মিলনমেলা। আমাদের এই ঐতিহ্যের অনেক কিছুই আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে বাঙালির সেই হারানো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই আমরা দুই দিনব্যাপী এই বর্ণিল আয়োজন করেছি।’

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন) ও আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ।

এছাড়াও লাঠিখেলা, বিলুপ্তপ্রায় ধুয়া গান, বাউল গান, আবৃত্তি ও রম্য বিতর্ক সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয়। যা দর্শকদের উপভোগ করতে দেখা যায়। তবে দর্শকদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুঁড়িয়েছে বিশেষ ‘গম্ভীরা’।পরিবেশনায় ছিলেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ড. মো. কামাল উদ্দীন ও ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের মনোজ কুমার প্রামাণিক।

বর্ষবরণকে ঘিরে অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী এবং সদস্য-সচিব অধ্যাপক ড. সুশান্ত কুমার সরকার।

মেলা ছাড়াও বিকেলে জয়ধ্বনি মঞ্চের সামনে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসবের।বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অংশগ্রহণে মেলায় ৪০টি স্টল বসেছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত দর্শনার্থীদের পদচারণায় এদিনে মেতে ছিল পুরো ক্যাম্পাস।নানা বর্ণিল আয়োজন,ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এই নতুন বছরকে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top