২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

হাসপাতালের কক্ষে রোগীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের কক্ষ থেকে সাথী আক্তার (২৮) নামে এক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে শহরের ডক্টরস হসপিটাল অ্যান্ড কার্ডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

নিহত সাথী আক্তার সৈয়দপুর পৌরসভার মুন্সিপাড়া নিমবাগান এলাকার বাসিন্দা রায়হান ইসলাম সোহাগের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই স্বামী রায়হান ইসলাম পলাতক থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর ৪টা ৪৬ মিনিটে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সাথীকে উক্ত বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পর কর্তব্যরত নার্সরা পূর্ববর্তী চিকিৎসা অনুযায়ী স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ অব্যাহত রাখেন।

কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স জাহিদা বেগম জানান, ভর্তির পর রোগীর স্বামী কিছু সময় পাশে থেকে নাশতা আনতে বের হয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফিরে এসে রোগীর সঙ্গে কথা বলে আবার বের হয়ে যান। এ সময় রোগী কক্ষে একাই ছিলেন।

তিনি আরও জানান, কিছুক্ষণ পর রোগীর কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। একাধিকবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বামীর উপস্থিতিতে, দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন সাথী আক্তারকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন তাহমিদ ইমাম জানান, ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ হাসপাতালে উপস্থিত হননি। পরে বিষয়টি সৈয়দপুর থানাকে অবহিত করা হয়।

এদিকে, নিহতের স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাজমুল হুদা বলেন, “বিষয়টি আমাদের অবগত নয়। কোনো রোগী ভর্তি হওয়ার পর অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল ত্যাগ করলে তাকে পালাতক হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তবে কী কারণে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল এবং কী ধরনের চিকিৎসা চলছিল—তা খতিয়ে দেখা হবে।”

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা জানান, “ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরোও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top