নিজস্ব প্রতিনিধি:
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা-এ এক দম্পতি ও তাদের দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধই মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার জানান, এটি ডাকাতির ঘটনা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তিনি বলেন, সাধারণত ডাকাতরা দ্রুত লুটপাট করে পালিয়ে যায়। শিশুদের এভাবে হত্যা করার ঘটনাও খুবই বিরল। তাই প্রাথমিক তদন্তে জমিজমা বিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ১৭ বিঘা জমি নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে ১২ বিঘা জমি ছেলে হাবিবুর রহমান-এর নামে লিখে দেন তার বাবা। সেই জমি দখলকে কেন্দ্র করে পরিবারের পাঁচ বোন মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ছয়জন এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। এরই মধ্যে হাবিবুর রহমানের এক ভাগ্নে ও ভগ্নিপতিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দেরও ধারণা, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জেরেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত আবদুস সামাদ ও শহিদুল ইসলাম-এর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) গভীর রাতে বাহাদুরপুর গ্রাম-এ নিজ বাড়িতে হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা এবং তাদের দুই সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)-কে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
পরদিন সকালে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।