২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে, ডিসেম্বরেই গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগের আশা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও উৎপাদনে না এলেও গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ অতিক্রম করেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ‘ফুয়েল লোডিং’-এর জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন শুরুর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্টরা। সরকারের আশা, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এখানকার উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

ফকির মাহবুব আনাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটের ফুয়েল লোডিং উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিতে পারেন ভ্লাদিমির পুতিন।

মন্ত্রী বলেন, ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের মূল কার্যক্রম শুরু হবে এবং বছরের শেষ নাগাদ এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি প্রবেশ করানোর পর নানা কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে আরও ৬ থেকে ১২ মাস সময় লাগতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ফুয়েল লোডিংয়ের পর ধাপে ধাপে নিরাপত্তা যাচাই, টারবাইন ও জেনারেটর পরীক্ষা, গ্রিড সমন্বয় এবং জরুরি সহায়তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

তিনি জানান, এই পর্যায়টি মূলত পরীক্ষামূলক বা পাইলট অপারেশন, যা ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় নিতে পারে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে রিঅ্যাক্টর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষমতায় টানা ১৮ মাস চলবে। এরপর জ্বালানি পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ শেষে নতুন চক্র শুরু হবে।

এদিকে গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় চারটি লাইন প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে রূপপুর-বাঘাবাড়ি, রূপপুর-বগুড়া এবং রূপপুর-গোপালগঞ্জ সংযোগ লাইন অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান বলেন, প্রথম ইউনিটের ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য গ্রিড সক্ষমতা প্রস্তুত রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ২০১৭ সালে পাবনায় শুরু হয় এই প্রকল্প। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। একাধিকবার সময়সীমা পেছালেও এখন এটি উৎপাদনের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রকল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top