নিজস্ব প্রতিনিধি:
রানা প্লাজা ধসের ঘটনার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি বহুল আলোচিত বিচার প্রক্রিয়া। ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার এই মামলায় উচ্চ আদালতের নির্ধারিত সময়সীমাও অনেক আগেই শেষ হয়েছে, তবে বিচার এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে আটকে রয়েছে। এতে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে নিহতদের স্বজন এবং বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে অবস্থিত রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হন ১ হাজার ১৩৬ জন পোশাকশ্রমিক। আহত ও পঙ্গু হন প্রায় দুই হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৩৮ জনকে।
বর্তমানে হত্যা মামলাটি ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ ৩০ মার্চ আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
এ ছাড়া একই ঘটনায় ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের আরেকটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে ঢাকার অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। ওই মামলায় ১৩৫ জন সাক্ষীর একজনেরও সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো হয়নি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, সাবেক সরকারের আমলে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা ছিল না। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় এই ট্র্যাজেডিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হলেও বিচারকাজে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
অন্যদিকে প্রধান আসামি সোহেল রানার আইনজীবী বলেছেন, তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে কারাগারে আছেন, অথচ মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। এতে ন্যায়বিচার বিলম্বিত হচ্ছে।
মামলার ৪১ আসামির মধ্যে চারজন মারা গেছেন। বর্তমানে ৩৭ জন আসামির মধ্যে ২৫ জন জামিনে, ১১ জন পলাতক এবং সোহেল রানা কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি) রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্তিতে দ্রুত বিচার ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, শুধু বিচার নয়, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে শিল্পকারখানায় কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রমিক নেতারা মনে করছেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বিচার শেষ না হওয়া দেশের শ্রমখাত ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে রয়েছে।