মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
টানা ভারী বর্ষণ, সরবরাহ সংকট ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রভাব পড়েছে নীলফামারীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। গত কয়েকদিন ধরে চাল, ভোজ্য তেল, ডিম, সবজি, মাছ ও মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর মধ্যে বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে প্যাকেটজাত ভোজ্য তেল। ফলে খোলা তেল বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জেলা সদরের শাখামাছা বাজার, সাহেব বাজার, নতুন বাজার ও বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টি ও জ্বালানি তেল সংকটের কারনে বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে দাম বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির।
এসময় বাজারে— কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা
বেগুন ৭০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বটবটি ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৩০টাকা কেজিসহ অন্যান্য মৌসুমি সবজিও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, ডিম, মাছ ও মাংসেও বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা গেছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা দরে। মাছের বাজারে লক্ষ্য করা গেছে, রুইমাছ ৩৫০ টাকা কেজি, কাতলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ব্রিগেট ২২০ থেকে ২৫০ টাকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এছাড়া দেশি জাতে শিং, মাগুর, কৈ মাছ নাগালের বাইরে।
খামারের মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্থানীয়ভাবে সোনালী মুরগি নামে পরিচিত মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, আর ব্রয়লার মুরগি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা ও দেশি জাতের মুরগী ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, শহরের মাংসের বাজারগুলোতে দাম চড়া। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, খাসি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাঠা ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা।
অপরদিকে, সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা গেছে ভোজ্য তেলের বাজারে। বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বোলতজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দোকানে খালি তাক পড়ে আছে। এ সুযোগে খোলা ভোজ্য তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে। এতে ভেজাল ও মান নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।
নীলফামারী শহরের ক্রেতা আব্দুল বারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সবজির দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষ এখন বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।”
ফার্মাসিস্ট রিয়াজুল হাসান চয়ন বলেন, “সয়াবিন তেল প্রতিটি পরিবারের প্রয়োজনীয় পণ্য। কিন্তু বাজারে প্যাকেটজাত তেল নেই। বাধ্য হয়ে মানুষ বেশি দামে খোলা তেল কিনছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি পরিবারের জন্য খোলা তেল না নিয়ে সরিষার তেল ব্যবহার করি। এতে স্বাস্থ্যগত কিছু উপকারও আছে।”
চৌরঙ্গী মোড় এলাকার রিকশাচালক মানিক মিয়া বলেন, “তেল, ডিম, সবজি—সবকিছুর দাম এত বেশি যে আমাদের মতো মানুষের কেনার ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর মাধ্যমে জেলার স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ী ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সচেতন মহলের মতে, বৃষ্টিকে অজুহাত করে কোনো মহল কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে বাজারে প্যাকেটজাত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।