নিজস্ব প্রতিনিধি:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প ঘিরে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে প্রকল্প থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট রুশ রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটেম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থ লোপাটের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে নেওয়া হয়, যেখানে সমপর্যায়ের প্রকল্প অন্য দেশে তুলনামূলক কম ব্যয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে একটি আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সংস্থা রূপপুর প্রকল্প নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, প্রকল্প ব্যয়ের অতিরিক্ত অংশ বিদেশি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামও উল্লেখ করা হয়।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এত বড় প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত অনুসন্ধান জরুরি।
অন্যদিকে দুদক সূত্র জানিয়েছে, বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ, ব্যাংক নথি ও আইনি সহায়তা প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে অনুসন্ধান ধীরগতিতে এগোচ্ছে। কমিশনের কার্যক্রম সীমিত থাকায় তদন্তেও প্রভাব পড়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মঙ্গলবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী আগস্টে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।