২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাজবাড়ীতে বাড়ি ফেরার পথে দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অটোচালক গ্রেপ্তার

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে দুই স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অটোরিকশা চালক মজনু মিয়া (৪০) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় আদালতে প্রেরণ করেছে। মজনু মিয়া গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ পাড়া এলাকার মৃত ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে গোয়ালন্দ বাজারের আড়ৎপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বাদীর অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, তার মেয়ে গোয়ালন্দ একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই এলাকার তার বান্ধবীর সঙ্গে প্রতিদিনের মতো গত মঙ্গলবার সকালে স্কুলে যায়। বিকাল ৩টার দিকে স্কুল ছুটি শেষে অটোরিকশাযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিকাল ৩টার পরে তারা গোয়ালন্দ বাজারের আড়ৎপট্টি এলাকায় মোঃ আক্কাছ আলী বেপারীর মালিকানাধীন ‘মেসার্স ইনছাফ বাণিজ্য ভান্ডার’ নামক দোকানের সামনে পৌঁছালে অটোরিকশা চালক ঝড়ো বাতাসের অজুহাতে গাড়ি থামিয়ে চারপাশের পর্দা নামিয়ে দেন। এরপর তিনি অটোরিকশার ভেতরে দুই ছাত্রীর পাশে গিয়ে বসেন এবং অনভিপ্রেতভাবে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দুই ছাত্রী দ্রুত অটোরিকশা থেকে নেমে অন্য রিকশায় করে বাড়ি ফিরে যায়। বাড়িতে পৌঁছে তারা কান্নাজড়িত অবস্থায় ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানায়।

মামলার বাদী বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি স্বজন ও প্রতিবেশীদের অবহিত করেন। পরে তার দেবর স্থানীয় জনগণের সহায়তায় গোয়ালন্দ বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মজনু মিয়াকে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে। পরবর্তীতে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ রাশিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক থাকা মজনু মিয়াকে উদ্ধার করে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তাকে বুধবার রাজবাড়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুদের জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top