তনিয়া আক্তার, জাককানইবি প্রতিনিধি:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সোসাইটির তরুণ গবেষকদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। ০৪ মে ২০২৬ তারিখ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে এই বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীপর্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য রিসার্চ সোসাইটিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের চিন্তা, গবেষণা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ পয়। এখানে তারা বিভিন্ন ধারণা নিয়ে কাজ করে, নতুন কিছু আবিষ্কারের চেষ্টা করে এবং নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বৃদ্ধি করে। গবেষণার মাধ্যমে তারা তাদের মতামত প্রকাশ করতে শেখে এবং সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। সাজমাজিক সমতা, জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য, প্রযুক্তি সংস্কৃতি ও শাসনব্যবস্থা-গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। গবেষণায় প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের চিন্তাশক্তিতে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে এবং আজীবন শেখার মানসিকতা বিকাশ করে।

শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান বিতরণ করা হয় পক্ষান্তরে গবেষণা সে জান তৈরি করে। সৃজনশীলতা, অনুসন্ধানী মনোভাব এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা-এসবই মানবসমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল, বিশ্লেষণক্ষমতা ও অন্তর্দৃষ্টি তৈরি হলে তারা নিজেদের ভাবনা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত- যিনি আমাদের সমাজে অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সত্যের প্রতি অটল অঙ্গীকারের প্রতীক। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যরলয়টি স্বাধীন চিন্তা, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং গবেষণাভিত্তিক চর্চাকে উৎসাহিত করে, যাতে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে একটি সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তুলতে পারে।
আমি আশা করি ও বিশ্বাস করি, এই রিসার্চ সোসাইটি শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে- বিশেষ করে মেন্টরশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রকাশনা, উপস্থাপনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে পারবে এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবনী ও মানবিক সমাজ নির্মাণে অবদান রাখবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে রিসার্চ সোসাইটির মডারেটর এ শেখ মেহেদী হাসান এবং রিসার্চ সোসাইটির পরামর্শক মো. মাসুদুর রহমান ও তানজিল আহমেদ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।