মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পরিকল্পিত অভিযানে ভিসা জালিয়াতি ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
রবিবার (৩ মে) জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. মতলুবর রহমানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৩নং নিতাই ইউনিয়নের পানিয়ালপুকুর ফারাসের পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মো. আব্দুস সালামের বসতবাড়ি থেকে তার দুই ছেলে—মো. রকি ইসলাম (১৯) ও মো. স্বাধীন ইসলাম (১৭)-কে আটক করা হয়। এদের মধ্যে একজনকে আইন অনুযায়ী ‘আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডিবি সূত্র জানায়, আটককৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের ফরেনসিক প্রাথমিক যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ডিভাইসগুলোতে একাধিক অনলাইন বেটিং ও ক্যাসিনো অ্যাপস, ভিসা প্রসেসিং সংক্রান্ত ভুয়া ডকুমেন্ট, বিভিন্ন ব্যক্তির পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্যের কপি, এবং সক্রিয় অবস্থায় থাকা একাধিক বেটিং অ্যাকাউন্ট ও লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া গুগল ক্রোম ব্রাউজারের হিস্টোরি বিশ্লেষণে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রমাণ মিলেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটকরা বিদেশে পাঠানোর নামে ভিসা সংক্রান্ত প্রতারণা করে অর্থ আদায় করত এবং একইসঙ্গে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থেকে অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করত। তারা বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমেও লেনদেন সম্পন্ন করত বলে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা নং-১১ (তারিখ: ৩ মে ২০২৬), জিআর নং-১৩৩/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২০(২), ২১(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় রুজু করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটক দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রয়োজনে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও ভিসা জালিয়াতির মতো অপরাধ বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে সাধারণ জনগণকে অনলাইন লেনদেন ও বিদেশে যাওয়ার প্রলোভনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।