রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের আদিতমারী সীমান্তে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা আলোচিত ‘মাদক সম্রাট’ মোহাম্মদ হোসেন পাইলট (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে আদিতমারী পুলিশ।
সোমবার রাতে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে উপজেলার মহিষখোচা এলাকা থেকে তাকে শিকলবন্দি করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত পাইলট মহিষখোচা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত নবিয়ার রহমান প্রামাণিকের ছেলে।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক এক সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাজা মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর আত্মগোপন পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালের একটি বড় মাদক মামলায় আদালত পাইলটকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
এদিকে সাজা ঘোষণার পর থেকেই এই মাদক কারবারি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে শুরু করেন। এলাকা পরিবর্তন করে ছদ্মবেশে অবস্থান করলেও নেপথ্যে থেকে তিনি মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদকের জনপদে আতঙ্কের নাম পাইলট স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক দাপট ছিল পাইলটের। আদিতমারীসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক আইনের অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে মাদকের বড় বড় চালান এনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করে আসছিলেন তিনি। তার হাতে মাদক ব্যবসার জাল বিস্তৃত হওয়ায় এলাকায় তিনি ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিতি পান।
পুলিশের বক্তব্য আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহিষখোচা এলাকায় পুলিশি জাল পেতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পাইলট একজন ধূর্ত মাদক কারবারি। যাবজ্জীবন সাজা হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে থেকে ফের মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।”
আজ দুপুরে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই শীর্ষ মাদক কারবারির গ্রেপ্তারে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।