রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চলমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির আঁচ লেগেছে কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকাগুলোতে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা জুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষ করে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জোরপূর্বক ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন থেকে জানানো হয়েছে যে, ভারতের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সীমান্ত সুরক্ষায় এই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিজিবি সদর দপ্তরের সরাসরি নির্দেশনায় ফুলবাড়ীর প্রতিটি বিওপি (Border Outpost) এবং সীমান্ত পাহারায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, শুধু দিনের বেলা নয়, রাতেও সীমান্তে টহল কার্যক্রম কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে ধরলা নদীর অববাহিকা এবং দুর্গম কাঁটাতারহীন এলাকাগুলোতে স্পিডবোট ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারকারী বা চোরাকারবারিরা যাতে সক্রিয় হতে না পারে, সেদিকেও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। এছাড়া মানবপাচার রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সীমান্ত সংলগ্ন সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজিবির গোয়েন্দা শাখা সীমান্তে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনার বিষয়ে সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করছে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন:
”সীমান্তের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ পারাপার ঠেকাতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে ভারতের পরিস্থিতির কারণে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি থাকায় আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছি। কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ নেই। প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে আমাদের নজরদারি রয়েছে।”
সীমান্তবর্তী এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে বিজিবির টহল আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘনঘন চোখে পড়ছে। সন্ধ্যা নামার পর সীমান্তে চলাচলের ওপরও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবির সমন্বয়ক সভায় সীমান্ত অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফুলবাড়ী সীমান্তের এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে বিজিবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।