নিজস্ব প্রতিনিধি:
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচিত কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ থানায় পদায়ন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদায়ন পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
২০২৩ সালে মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার ওসি থাকাকালে বদলির পর থানার এসি, টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসেন। সে সময় তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হলেও বর্তমানে তিনি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফরিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, সে সময় গণমাধ্যমে ঘটনাটি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
শুধু তিনি নন, আওয়ামী আমলে বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত আরও কয়েকজন কর্মকর্তা নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যাদের দূরবর্তী স্থানে বদলি করা হয়েছিল, তাদের আবার ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পদায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মক সংকটে পড়ে। সাম্প্রতিক পদায়ন সেই সংকট আরও বাড়াতে পারে।
এদিকে দুই হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে সম্প্রতি ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। যদিও মাহবুব আলম দাবি করেছেন, মামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
একইভাবে আওয়ামী আমলে ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ ও লালবাগ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নুরুল মুত্তাকিন বর্তমানে মোহাম্মদপুর এলাকায় এসি (প্যাট্রোল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, অতীতে ছাত্রদল বা বিএনপিপন্থি পরিচয়ের কারণে তারা পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত ছিলেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরও তারা প্রত্যাশিত মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। বরং আগের সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারাই পুনর্বাসিত হচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ।
রাজধানীর মতিঝিল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কামরুজ্জামান, যিনি আওয়ামী আমলে কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া মাহাবুব রহমানকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী আমলে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা কয়েকজন কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন আরমান হোসেন, নূর হোসেন মামুন এবং আতিকুর রহমান।
এছাড়া গুলশান থানার ওসি দাউদ খানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পর মন্তব্য করবেন।