নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়াকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ এবং চামড়াশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবার কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চামড়া পাচার রোধ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে তিনি বলেন, কুরবানির চামড়ার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। এজন্য অর্থ বিভাগ ২০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে।
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চামড়ার দরপতন এবং সংরক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া নষ্ট হওয়ায় সরকার এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, বাজার তদারকি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত লবণ দিয়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কসাই, মৌসুমি ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা ও এতিমখানার সংশ্লিষ্টদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)-এর সিনিয়র সহসভাপতি মো. শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মানসম্মত চামড়ার বিকল্প নেই। পশু জবাইয়ের ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে পর্যাপ্ত লবণ ব্যবহার না করলে চামড়ায় পচন ধরতে পারে এবং এর মান নষ্ট হয়ে যায়।
সরকার এবার স্থানীয় ক্ষুদ্র সংগ্রহকারী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা হবে।
চামড়া পাচার ঠেকাতে ঈদের পর সীমান্তমুখী চামড়াবাহী ট্রাক চলাচলে কঠোর নজরদারি থাকবে। বাজারে সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং ধর্মীয় সভার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ বরাদ্দের অর্থ লবণ কেনা ও বিতরণ, গণমাধ্যমে প্রচারণা, মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ এবং চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
সরকারের আশা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে এবার কুরবানির চামড়ার অপচয় কমবে, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দেশের চামড়াশিল্প নতুন গতি পাবে।