মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ভুইয়াছড়া এলাকায় স্থানীয় কৃষক সালাউদ্দিনের ব্যতিক্রমী আঙুর বাগানকে কেন্দ্র করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ( ১২ মে) মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় আয়োজিত এ বৈঠকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা অংশ নেন।
জানা যায়, স্থানীয় কৃষক সালাউদ্দিন প্রায় ১৫ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে দেশি-বিদেশিসহ প্রায় ৬০ প্রজাতির আঙুরের চারা রয়েছে। ইউটিউব ও অনলাইনভিত্তিক কৃষি বিষয়ক তথ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী বাগান গড়ে তুলেছেন।
পাহাড়ি অঞ্চলে এমন উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস , দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিনসহ স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বৈঠকে কৃষক সালাউদ্দিন বলেন, পাহাড়ের চূড়ায় অতিরিক্ত রোদ থাকায় আঙুর চাষে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। সাধারণত শীতল ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আঙুরের ফলন ভালো হয়। তাই ভবিষ্যতে আধুনিক পদ্ধতিতে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিনি কৃষি বিভাগের কাছে একটি গ্রিন হাউজ স্থাপনের আবেদন জানান।
এসময় অতিরিক্ত উপ-পরিচালক অঙ্কুর বিশ্বাস কৃষকের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দীঘিনালার মতো পাহাড়ি এলাকায় আঙুর চাষ সত্যিই একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। আমরা চেষ্টা করব কৃষককে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে এখানে একটি গ্রিন হাউজ প্রকল্প দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটি কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন ফল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। সালাউদ্দিনের এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা পেলে দীঘিনালায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।