রিফাজ বিশ্বাস লালন, ঈশ্বরদী প্রতিনিধি:
আজ বুধবার দুপুরের পর উপজেলার মুলাডলি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থরা ওই বিদ্যালয়েরই ছাত্রী। ঘটনার পর থেকে অসুস্থ ছাত্রীদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন স্কুল ক্যাম্পাস থেকে একটি ‘ভারা সলিউশন (vara solution)’ একটি বোতল উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে ঈশ্বরদীর ইউএনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতালের অন্ত:বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ৫৬ জন ছাত্রী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ছাত্রী অসুস্থ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাসনা রানি জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমে স্কুলে দু’জন ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরেই একে অন্যান্য ছাত্রীর’ অসুস্থ হতে থাকে। এদের অনেকই নি:শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছিল। এ অবস্থায় ছাত্রীদের অসুস্থতার খবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে জানানো হয়। ঘটনা শুনে তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন। ছাত্রীরা বিকেল পর্যন্ত অনেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই স্কুলের ছাত্রীরা জানান, ক্লাস করার সময় হঠাৎ কোনো রাসায়নিক পদার্থ মতো ঝাঝালো কিছু গন্ধ অনুভব করি। এরপর পেটের মধ্যে ব্যাথা করে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এভাবে আমরা অনেকই অসুস্থ হয়ে পড়ি।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিতু জানায়, আমরা স্কুলের দ্বিতীয় ফ্লোরে ছিলাম। হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার খবর শুনে স্যার আমাদের নিচে নেমে আসতে বলেন। নিচে নেমে আসতেই কেমন যেন একটা গন্ধ অনুভব করি। তখন আমার প্রচন্ড খারাপ লাগছিল। দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এমন অবস্থা হয় আমার মতো অনেকেই হয়। অনেকেই ছোটাছুটি করে,পরে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে অসুস্থ ছাত্রীদের খোঁজখবর নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকের মতে বিষয়টি একধরনের হিসটিরিয়া রোগ বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন। তবুও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্তের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
এদিকে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো: জাহিদুল ইসলাম জানান, স্কুল উদ্ধার হওয়া যে বোতলের ছবি দেখা গেছে, তাতে ‘Vara Solution’ লেখা ছিল। এটি মূলত ডাইমেথিকনের ৯২% দ্রবণ, যার রাসায়নিক নাম পলিডাইমিথাইলসিলক্সেন- যা সাধারণত উকুননাশক, প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যে ব্যবহৃত হয়। তবে এর স্প্রে থেকে শ্বাস নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।